
শচীন্দ্র নাথ মন্ডল দাকোপ খুলনা প্রতিনিধি।
খুলনা জেলার প্রত্যন্ত জনপথ দাকোপ উপজেলায়অব্যাহত নদী ভাংগনের ফলে পাল্টে যাচ্ছে মানচিত্র । আর এ নদী ভাঙ্গনের সাথে ভেসে গেছে হাজার হাজার বিঘা ফসলী জমি, মৎস্য ঘেরসাথে বিলীন হয়েছে শত বছরের পর বছর বসবাসের বসতভিটা। ফলে সহায় সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে হাজারও পরিবার। দাকোপ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখন নদী গর্ভে বিলীন।সুন্দরবন সংলগ্ন প্রবহমান স্রোতোস্বিনী শিবসা ও পশুরসহ সাতটি নদী গিলে খাচ্ছে উপজেলার নদীসংলগ্ন এলাকা ও গ্রামগুলো। প্রতিদিনেই ভাঙছে কোনো না কোনো এলাকা। ভাঙ্গনে আবাদযোগ্য জমি, বাজার, কাঁচা-পাকা ঘর ও গাছপালা নদীতে বিলীন হচ্ছে। ভেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ক্ষেতের ফসল ও ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ওয়াপদার রাস্তা নির্মাণ কাজ চললেও সে কাজ খুবই ধীরগতিতে এগোচ্ছে। এলাকাবাসি দীর্ঘদিন যাবত নদী ভাঙ্গনের এই দুর্ভোগ-দুর্যোগ প্রতিরোধে উঁচু টেকসই বিকল্প বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না ।জেলার প্রত্যন্ত জনপথে দাকোপ উপজেলাটি একটি পৌরসভা ও নয়টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত । যা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ৩১, ৩২ ও ৩৩ নম্বর পোল্ডারের আওতায় তিনটি দ্বীপ নিয়ে গঠিত পললভূমি। মাত্রাতিরিক্ত লবণাক্ততার বিরূপ প্রভাব থেকে সম্পদ ও জনগণকে রক্ষার উদ্দেশ্যে ষাটের দশকে পোল্ডারগুলোর নদীর তীরে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় সংস্কার ও মেরামতের অভাবে, যত্রতত্র স্লুইজগেট নির্মাণ ও বাঁধ কেটে চিংড়ি ঘেরে পানি উত্তোলন করায় বাঁধগুলোর নানা স্থান ভেঙ্গে নদীতে বিলীন হয়েছিল। সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডর ও ২০০৯ সালে আইলা’র আঘাতে। তখন বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থান ভেঙ্গে প্রায় এ এলাকাটি প্লাবিত হয়। ক্ষত-বিক্ষত হয় গোটা উপজেলা। তখনকার সেই ক্ষতি এখনোও কাটিয়ে উঠতে পারেননি এলাকাবাসি। গৃহহীন প্রায় ৪শ’র বেশি পরিবার এখনও বেড়িবাঁধ ও রাস্তার উপর বসবাস করছে।এলাকাবাসির ভাষ্যমতে, আইলার পূর্বে যে স্থানটিতে বাঁধ ছিলো তা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ায় অনেকটা ভেতরের দিকে এসে রিংবাঁধ দেওয়া হয়েছে। নদী ভাঙ্গন ও বাঁধ ভেঙ্গে বিলীন হয়েছে আবাদযোগ্য জমি, হাট-বাজার, বাড়িঘর। অনেকটা ভেতরের দিকে এসে রিংবাঁধ দেওয়াতে প্রচুর জমি নদীতে চলে গেছে এবং যাচ্ছে। এভাবে শিবসা, পশুর, ঢাকি, ভদ্রা, মাঙ্গা, ঝপঝপিয়া,চুনকুড়ি খেয়াঘাট , পোদ্দারগঞ্জ, কৈলাশগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে। তবে বানিশান্তার পতিতা পল্লী থেকে আমতলা পুলিশ ফাঁড়ি পর্যন্ত মারাত্মক ভাঙন দেখা গেছে। নদীভাঙ্গনের ফলে কৃষক হারাচ্ছে ফসলী জমি। এমন মরার উপর খাঁড়ার ঘাঁ সহ্য করতে না পেরে এলাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দারা।পানখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ সাবির আহমেদ বলেন, আমার এলাকা সর্বত্রই নদী ভাঙন অব্যাহত। পাউবো’র গাফিলতি ঠিকাদারের বেড়িবাঁধ সংস্কার কাজের দীর্ঘসুত্রিতায় ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে এলাকার। যে স্থানে নির্মাণ কাজটি আগে করার প্রয়োজন সেখানে কোনোভাবেই কাজ করছে না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ঠিকমতো দেখাশোনা করে না। সংস্কার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য পাউবোর তদারকি চোখে দেখছে না। বারবার অভিযোগ করার সত্ত্বেও কোনো উপকার পাওয়া যাচ্ছে না।তিলডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জালাল উদ্দীন গাজী মুঠোফোনে বলেন, ইউনিয়নের ২৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের ১৬ কিলোমিটার খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। সম্প্রতি বটবুনিয়া বাজার সংলগ্ন রাস্তায় ভাঙ্গন ও কামিনীবাসিয়া গ্রামে নদী ভাঙনে বিলীন হয়েছে ৩৬টি পরিবার। ক্ষতিগ্রস্থ মানুষগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে। তিনি আরও বলেন, বর্ষামৌসুমে নদীতে যেভাবে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে আগামী গোনমুখে (ভরাটকাল) আমার ইউনিয়নের মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো ভেঙে প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশিদুর রহমান বলেন, তিনি সম্প্রতি এখানে যোগ দিয়েছেন। নদী ভঙ্গন রোগে কাজ করার জন্য বরাদ্ধ চেয়ে উদ্ধর্তন কতৃপক্ষের নিকট আবেদন করেছি । বরাদ্দ আসলে শিগগিরই ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শচীন্দ্র নাথ মন্ডল
দাকোপ খুলনা
তাং ২১/১০/২৬
